Constitution

বাংলাদেশ কীটতত্ত্ব সমিতি

স্থাপিত : ১৯৯০

গঠনতন্ত্র

অনুচ্ছেদ ১ : সমিতির পরিচিতি ও অবস্থিতি

এই সমিতি বাংলাদেশ কীটতত্ত্ব সমিতি (Bangladesh Entomological Society) নামে পরিচিত হইবে। ইহার প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট/বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-এ অবস্থিত থাকিবে।

অনুচ্ছেদ ২ : সমিতির উদ্দেশ্য

এই সমিতি সম্পূর্ণরূপে অরাজনৈতিক প্রকৃতির হইবে। কীটতত্ত্ব সম্পর্কিত নিম্নলিখিত বিষয়ে এই সমিতি উৎসাহ প্রদান করিবে।

(ক)  কীটতত্ত্ব বিষয়ক জ্ঞান বিস্তার;

(খ)  কীটতাত্ত্বিক গবেষণা;

(গ)  জাতীয় এবং আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে একই ধরনের উদ্দেশ্য সম্পন্ন সমিতি কিংবা প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে সহযোগিতা;

(ঘ)  সেমিনার, কনফারেন্স, কর্মশালা, সিম্পোজিয়াম, প্রদর্শনী, বার্ষিক সম্মেলন প্রভৃতির মাধ্যমে কীটতত্ত্ববিদদের মধ্যে ভাবের আদান প্রদান;

(ঙ)  কীটতত্ত্ববিদদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণ;

(চ)  এই সমিতির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় একটি বৈজ্ঞানিক জার্নাল প্রকাশনা।

অনুচ্ছেদ ৩ : সদস্যপদ

ধারা ১ : সদস্যের প্রকারভেদ

বাংলাদেশ কীটতত্ত্ব সমিতির নিম্নলিখিত চার প্রকারের সদস্যপদ থাকিবে :

(ক)  সাধারণ সদস্য

(খ)  সহযোগী সদস্য

(গ)  জীবন সদস্য এবং

(ঘ)  সম্মানিত সদস্য

ধারা ২ : সদস্যের যোগ্যতা

(ক)    সাধারণ সদস্য : কীটতত্ত্ব বিষয়ে কর্মরত/আগ্রহী কৃষি ডিগ্রীধারী যে কোন ব্যক্তি অথবা কীটতত্ত্ব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ (Specialist), প্রাণীবিদ্যায় এম.এসসি. ডিগ্রীধারী শিক্ষকতা/গবেষণায় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি এই প্রকার সদস্য হইবার উপযুক্ত বলিয়া বিবেচিত হইবেন।

(খ)    সহযোগী সদস্য : কীটতত্ত্ব বিষয়ে আগ্রহী বি.এসসি. ডিগ্রীধারী যে কোন ব্যক্তি ভর্তি ফি এবং বার্ষিক চাঁদা প্রদান করিয়া এই প্রকার সদস্য হইবার উপযুক্ত বলিয়া বিবেচিত হইবেন।

(গ)    জীবন সদস্য : এই সমিতির যে কোন সাধারণ সদস্য ন্যূনতম এক বৎসর সাধারণ সদস্য থাকিবার পর এককালীন নির্ধারিত পরিমাণের চাঁদা প্রদানের মাধ্যমে জীবন সদস্য পদ গ্রহণ করিতে পারিবেন।

(ঘ)    সম্মানিত সদস্য : কীটতত্ত্ব বিষয়ে খ্যাতিসম্পন্ন অথবা কীটতত্ত্ব ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রহিয়াছে এমন কোন ব্যক্তিকে সম্মানিত সদস্যপদের জন্য বিবেচনা করা যাইতে পারে। সম্মানিত সদস্যপদের মনোনয়ন সমিতির সাধারণ সভায় সংখ্যাগরিষ্ট ভোটে গৃহীত হইবে।

ধারা ৩ : সদস্যের অধিকার ও সুবিধাদি

সমিতির সকল সদস্য সমানঅধিকার ভোগ করিবেন, কিন্তু সাধারণ সদস্য এবং জীবন সদস্য ব্যতীত অন্য কোন প্রকার সদস্যের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার ক্ষমতা থাকিবে না এবং তাঁহারা কার্যনির্বাহী পরিষদের কোন পদের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন না। সকল প্রকার সদস্যই এই সমিতির যাবতীয় আইন-কানুন মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবেন।

ধারা ৪ : সদস্যপদের জন্য নিয়মাবলী

অনুচ্ছেদ ৩-এর ধারা-২ এ উল্লিখিত সাধারণ কিংবা সহযোগী সদস্য পদের জন্য সমিতির নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় চাঁদাসহ সমিতির সাধারণ সম্পাদকের নিকট আবেদন করিবেন। সাধারণ সম্পাদক উক্ত আবেদনপত্র কার্যনির্বাহী পরিষদে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করিবেন। আবেদনপত্র অনুমোদিত হইলে আবেদনকারী ব্যক্তিকে সদস্যপদ ন্মবর প্রদান করা হইবে। আবেদনপত্র প্রত্যাখ্যাত হইলে  জমাকৃত চাঁদাসহ ইহা আবেদনকারীকে ফেরৎ প্রদান করা হইবে।

ধারা ৫ : অন্তর্ভূক্তি এবং বার্ষিক চাঁদা

সমিতির সদস্যপদের আবেদনপত্র জমা দিবার সময় প্রত্যেক আবেদনকারী ব্যক্তি ভর্তি ফি বাবদ ৫০/- (পঞ্চাশ) টাকা জমা দিবেন। ইহা  ছাড়া প্রত্যেক সাধারণ কিংবা সহযোগী সদস্য বার্ষিক চাঁদা হিসাবে ১০০/- (একশত) টাকা হারে প্রদান করিবেন। একজন সাধারণ সদস্য এককালীন ১,৫০০/- (এক হাজার পাঁচশত) টাকা প্রদান করিয়া জীবন সদস্যপদ গ্রহণ করিতে পারিবেন। সম্মানিত সদস্যগন কোন প্রকার ভর্তি ফি বা বার্ষিক চাঁদা প্রদান করিবেন না। সমিতির সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের ভিত্তিতে ভর্তি ফি, বার্ষিক চাঁদার হার কিংবা জীবন সদস্য হওয়ার এককালীন চাঁদা প্রয়োজনবোধে বাড়ানো যাইতে পারে। বিদেশী ব্যক্তির ভর্তি ফি ৩ (তিন) ডলার এ্‌বং বার্ষিক চাঁদা ৫ (পাঁচ) ডলার হিসাবে গন্য করা হইবে এবং এই চাঁদা চলতি বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রদান করা যাইবে। একজন বিদেশী সদস্য ন্যুনতম এক বছরের চাঁদা প্রদানের পর এককালীন  ১০০ (একশত) ডলার সমমূল্যের টাকা প্রদান করিয়া জীবন সদস্য হইতে পারিবেন।

ধারা ৬ : সদস্যপদ বিলুপ্তি

কোন সদস্যের সদস্যপদ নিম্নলিখিত কারণে বিলুপ্ত ঘোষনা করা যাইতে পারে :

(ক) সদস্যের পদত্যাগের ফলে;

(খ)  সহযোগী সদস্য

(গ)  সমিতি কর্তৃক বহিস্কৃত হইলে;

(ঘ)  কোন সদস্য পাঁচ বৎসর যাবত সমিতির নির্ধারিত চাঁদা পরিশোধ না করিলে তাঁর সদস্যপদ বিলুপ্ত হইবে। তবে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে পরপর তিনবার পত্র মারফত অবহিত করিতে হইবে। সদস্যপদ বিলুপ্তির পর ঐ সদস্য পুনরায় সদস্যপদের আবেদন করিলে বকেয়াসহ চাঁদা পরিশোধ সাপেক্ষে সদস্য হিসাবে তাঁহাকে গ্রহণ করা যাইবে। এই ক্ষেত্রে তাঁর মূল সদস্যপদ নম্বর পূর্বেরটিই বহাল থাকিবে।

ধারা ৭ : সদস্যপদ হইতে বহিস্কার

সমিতির আইন-লংঘনকারী কিংবা সমিতির সার্থের পরিপন্থী কার্যে লিপ্ত সদস্যকে সাধারণ সভায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে বহিস্কার করা যাইবে এবং এই ক্ষেত্রে তাঁহার নিকট হইতে প্রাপ্ত চাঁদা ফেরৎ দেওয়া হইবে না।

অনুচ্ছেদ ৪ : কার্যনির্বাহী পরিষদ

ধারা ১: কার্যনির্বাহী পরিষদের কাঠামো

বাংলাদেশ কীটতত্ত্ব সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ নিম্নলিখিত ১৭ জন সদস্য সমন্ময়ে গঠিত হইবে:

সভাপতি          ১ জন

জ্যৈষ্ঠ সহ-সভাপতি   ১ জন

সহ-সভাপতি      ১ জন

সাধারণ সম্পাদক    ১ জন

যুগ্ম-সম্পাদক      ১ জন

কোষাধ্যক্ষ         ১ জন

প্রকাশনা সম্পাদক    ১ জন

সদস্য   (৮+২) = ১০ জন

আটজন সদস্য নতুন সদস্যরূপে এবং পূর্ববতী পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক (পদাধিকার বলে) পরবর্তী কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবেন। তবে পূর্ববর্তী পরিষদের সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক অথবা উভয়েই পরবর্তী পরিষদের কোন পদে নির্বাচিত হইলে তাঁহাদের জন্য সংরক্ষিত সদস্য পদে নির্বাচনের মাধ্যমে নিয়োগ করা হইবে।

ধারা ২ : কার্যনির্বাহী পরিষদের স্থায়ীত্ব এবং কার্যাবলী :

(ক) কার্যনির্বাহী পরিষদ হইবার পর সর্বমোট ২টি পঞ্জিকা বৎসর স্থায়ীত্ব লাভ করিবে।

(খ)  কার্যনির্বাহী পরিষদের এক-তৃতীয়াংশ কর্মকর্তার উপস্থিতিকে কোরাম বলিয়া গন্য করিতে হইবে।

(গ)  সমিতির সর্বাঙ্গীন উন্নতিকল্পে কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্মসূচী এবং কর্তব্য নির্ধারণ করিবেন।

(ঘ)  এই পরিষদ পরবর্তী কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন গঠন করিবেন।

(ঙ)  কার্যনির্বাহী পরিষদ বৎসরে কমপক্ষে দুইবার মিলিত হইবেন। তবে জরুরী প্রয়োজনে নোটিশের মাধ্যমে যে কোন সময় জরুরী সভা আহবান করিতে পারিবেন।

(চ)  সমিতির অর্থ সংক্রান্ত হিসাব, প্রয়োজনবোধে উপ-পরিষদ গঠন এবং সমিতির উন্নতিকল্পে সেচ্ছাসেবী অথবা বেতনভুক্ত কর্মী নিয়োগের জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদের ক্ষমতা থাকিবে।

(ছ)  কার্যনির্বাহী পরিষদ দুই বৎসর কার্যকালে কমপক্ষে একটি বার্ষিক সাধারণ সভা আহবান করিবেন। সভায় অন্যুন এক-তৃতীয়াংশ সাধারণ সদস্যের উপস্থিতিকে কোরাম গন্য করা হইবে।

(জ)  কার্যনির্বাহী পরিষদ সমিতির বৈজ্ঞানিক জার্নাল (Bangladesh Journal of Entomology)-এর প্রকাশনার জন্য একটি সম্পাদনা পরিষদ গঠন করিবেন।

ধারা ৩ : পদত্যাগ ও অনাস্থা

কার্যনির্বাহী পরিষদের কোন কর্মকর্তা তাঁহার পদ হইতে পদত্যাগ করিতে চাহিলে তাহা পরিস্কারভাবে কারণ উল্লেখপূর্বক সভাপতিকে লিখিতভাবে জানাইতে হইবে। সভাপতি উহা কার্যনির্বাহী পরিষদে বিবেচনা ও গ্রহণের জন্য উপস্থাপন করিবেন। সভাপতি স্বয়ং পদত্যাগ করিতে চাহিলে তিনি একইভাবে সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করিবেন। কার্যনির্বাহী পরিষদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনয়ন করিতে হইলে অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সাধারণ সদস্যের স্বাক্ষরিত আবেদনপত্র সভাপতির মাধ্যমে পেশ করিতে হইবে। উক্ত অনাস্থা প্রস্তাব সাধারণ সভায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করিলে উক্ত কার্যনির্বাহী পরিষদ বাতিল বলিয়া পরিগণিত হইবে। উক্ত সভায় সমিতির পরবর্তী নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত কার্য পরিচালনা করিবার জন্য একটি সীমিত সংখ্যক সদস্যের এড-হক পরিষদ গঠন করা হইবে।

ধারা ৪ : শূন্যপদ পূরণ

কার্যনির্বাহী পরিষদের কোন কর্মকর্তার মৃত্যু, পদত্যাগ, সদস্যপদ বাতিল প্রভৃতি কারণে পদ শূন্য হইলে ঐ পদে একজন কর্মকর্তা কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তাদের ভোটের মাধ্যমে সাধারণ সদস্যের মধ্যে হইতে নির্বাচিত করা হইবে। সভাপতি পদ শূন্য হইলে জ্যৈষ্ঠ সহ-সভাপতি উক্ত পদে স্থলাভিষিক্ত হইবেন। পরিষদের কোন শূন্য পদই এক মাসের বেশি খালি রাখা যাইবে না।

ধারা ৫ : পরিষদের কর্মকর্তাদের কার্যবিধি

ক. সভাপতি :

১। সমিতির সভাপতি সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

২। জরুরী  অবস্থায় কার্যনির্বাহী পরিষদের পক্ষ থেকে যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবেন। তবে এই সিদ্ধান্ত পরিষদের পরবর্তী সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করিতে হইবে।

৩। সমিতির কোন সভায় পক্ষে এবং বিপক্ষে সমান সংখ্যক ভোট হইলে সভাপতি একটি বিশেষ ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।

৪। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আপত্তি ব্যতিরেকে কোন সভায় সভাপতির রায় চুড়ান্ত বলিয়া গণ্য করা হইবে।

৫। সভাপতি স্বীয় কার্যের জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদ এবং সাধারণ সদস্যদের নিকট দায়ী থাকিবেন।

খ. সহ-সভাপতি :

সভাপতিকে সর্বোতভাবে সমিতির কার্য পরিচালনায় সাহায্য করিবেন এবং সভাপতির অনুপস্থিতিতে জ্যৈষ্ঠ সহ-সভাপতি কিংবা তাঁহার অনুপস্থিতিতে সহ-সভাপতি ক্ষমতাসম্পন্ন হইবেন ও যাবতীয় কার্যাদি পরিচালনা করিবেন।

গ. সাধারণ সম্পাদক :

১। সভাপতির সহিত আলোচনা সাপেক্ষে অর্থাৎ সম্মতিক্রমে সাধারণ সম্পাদক সমিতির সভা এবং কার্যনির্বাহী পরিষদের সকল সভা আহবান করিবেন। সভার কার্যবিবরণী এবং সমিতির যাবতীয় কাগজপত্র তিনি সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণ করিবেন।

২। তিনি সমিতির স্থাবর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন।

৩। সাধারণ সম্পাদক সকল প্রকার চিঠিপত্রের আদান প্রদান করিবেন এবং বৎসর শেষে সমিতির কার্যাবলী সম্বলিত একটি বার্ষিক রিপোর্ট প্রণয়ন করতঃ বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপন করিবেন।

৪। প্রয়োজনবোধে কার্যনির্বাহী পরিষদের মঞ্জুরীক্রমে আবশ্যকীয় জিনিসপত্র ক্রয় এবং মঞ্জুরীর ভিত্তিতে কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবেন।

৫। সাধারণ সম্পাদক স্বীয় কার্যাবলীর জন্য সভাপতি এবং তাঁহার মাধ্যমে কার্যনির্বাহী পরিষদ ও সমিতির সকল সদস্যের নিকট দায়ী থাকিবেন।

ঘ. যুগ্ম-সম্পাদক :

যুগ্ম-সম্পাদক সমিতির কার্যসমূহে সাধারণ সম্পাদককে সর্বোতভাবে সাহায্য করিবেন। সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক অর্পিত দায়িত্বসমূহ পালন এবং সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে তাঁহার সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।

ঙ. কোষাধ্যক্ষ :

সমিতির সকল প্রকার আর্থিক লেনদেন অর্থাৎ একাউন্ট পরিচালনা করিবেন। তিনি অর্থনৈতিক রিপোর্ট তৈরি করতঃ সাধারণ সভায় উপস্থাপন করিবেন। কোষাধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে কার্যনির্বাহী পরিষদের মনোনীত সদস্য উক্ত দায়িত্ব পালন করিবেন।

চ. প্রকাশনা সম্পাদক :

প্রকাশনা সম্পাদক সমিতির বিভিন্ন সাময়িক প্রকাশনা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করিবেন। এই সমিতির বৈজ্ঞানিক জার্নাল প্রকাশের ক্ষেত্রেও দায়িত্বপ্রাপ্ত হইবেন।

ছ. সদস্যবৃন্দ :

কার্যনির্বাহী পরিষদের সকল সদস্য সমান অধিকার ভোগ করিবেন। প্রয়োজন অনুসারে কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক আরোপিত দায়িত্বসমূহ সুষ্ঠুভাবে পালন করিবেন।

ধারা ৬ : কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন পদ্ধতি

১।   নির্বাচনের জন্য সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যদের মধ্য থেকে একজন নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত করা হইবে। নির্বাচন কমিশনার সাধারণ সদস্যদের মধ্য থেকে কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র আহবান করিবেন। যদি সর্বসম্মতিক্রমে মাত্র একটি প্যানেল উত্থাপিত হয় তাহা হইলে নির্বাচন কমিশনার সেই প্যানেলকে কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচিত সদস্যবৃন্দ হিসাবে ঘোষণা দিবেন।

অথবা

যদি একের অধিক প্যানেল অথবা একই পদের জন্য একাধিক মনোনয়ন উত্থাপিত হয় তাহা হইলে নিম্নবর্ণিত নির্বাচন পদ্ধতি মোতাবেক কার্যকরী পরিষদ নির্বাচন করিতে হইবে :

(ক)  সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে হইতে একজন নির্বাচন কমিশনার এবং তাঁকে সহায়তা করার জন্য দুইজন সহকারী নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত করিতে হইবে।

(খ)  নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের তাঁহাদের দ্ধারা পরিচালিত নির্বাচনে কোন পদ-প্রার্থী হইবার অধিকার থাকিবে না।

(গ)  নির্বাচন কমিশনার দুই বা ততোধিক প্যানেল অথবা একই পদের জন্য দুই বা ততোধিক প্রার্থীদের নাম বোর্ডে পাশাপাশি লিখিয়া দিবেন।

(ঘ)  প্রত্যেক উপস্থিত সদস্য সাদা কাগজে গোপনভাবে পদের নাম এবং যাহাকে মনোনীত করিতে চাহিতেছেন তাঁহার নাম লিপিবদ্ধ করিয়া নির্বাচন কমিশনারের কাছে জমা দিবেন।

(ঙ)  একটি কাগজের মধ্যেই একজন সদস্য সবগুলি পদের পাশাপাশি প্রার্থীর নাম লিখিয়া জমা দিতে পারিবেন।

(চ)  সকল সদস্যের উপস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনার সকল প্রার্থীর ভোট গণনা করিবেন।

(ছ)  নির্বাচন কমিশনার স্বাক্ষরিত নির্বাচনের ফলাফল সকল সদস্যদের মধ্যে লিখিতভাবে প্রচার করিতে হইবে।

২। বাংলাদেশ কীটতত্ত্ব সমিতির সদস্য সংখ্যা পাঁচ শতাধিক হইলে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি মোতাবেক কার্যকরী পরিষদ নির্বাচন করা হইবে।

(ক)  কার্যনির্বাহী পরিষদ একজন প্রিসাইডিং অফিসার ও দুইজন সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করিবেন।

(খ)  কার্যনির্বাহী পরিষদের স্থায়ীত্বকালের শেষ মাস এবং সমিতির শেষ সাধারণ সভাকে পরবর্তী কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনের তারিখ হিসাবে গ্রহণ করা যাইতে পারে। নির্বাচনের তারিখ ও সময় কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত হওয়ার পর সাধারণ সম্পাদক উহা নির্ধারিত নির্বাচন তারিখের কমপক্ষে ৩০ দিন পূর্বে সকল সদস্যকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জ্ঞাত করাইবেন।

(গ)  প্রিসাইডিং অফিসার কর্তৃক গোপন ব্যালট/গোপন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করিতে হইবে। নির্বাচন কমিশন ব্যালট কাগজের রূপ/আকার নির্ধারন করিবেন।

(ঘ)  ভোট গ্রহণ সমাপ্তির পর পরই একই দিনে প্রার্থী/প্রার্থী কর্তৃক নির্ধারিত ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ভোট গণনা করা হইবে এবং প্রিসাইডিং অফিসার কর্তৃক ফলাফল ঘোষণা করা হইবে।

(ঙ)  প্রত্যেক পদের জন্য সাধারণ সদস্যদের নিকট হইতে মনোনয়নপত্র আহবান করা হইবে। মনোনয়নপত্র যথাযথভাবে পূরণ করতঃ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিকট পৌঁছাইতে হইবে।

(চ)  গঠনতন্ত্র মোতাবেক কার্যনির্বাহী পরিষদের যে কোন পদের জন্য যে কোন সাধারণ সদস্য অন্য যে কোন একজন সক্রিয় সদস্যের নাম প্রস্তাব করিতে পারিবেন এবং উক্ত প্রস্তাব অপর যে কোন দুইজন সাধারণ সদস্য কর্তৃক সমর্থিত হইতে হইবে।

(ছ)  জমাদানকৃত মনোনয়নপত্রসমূহ বাছাই করার পর নির্বাচন কমিশন যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়ন করতঃ নির্বাচনের কমপক্ষে ২০ দিন পূর্বে সকল সাধারণ সদস্যকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাইয়া দিবেন।

(জ)  যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশিত হওয়ার ৭ (সাত) দিনের মধ্যে সভাপতির নিকট লিখিত আবেদন সাপেক্ষে কোন মনোনীত প্রার্থী তাঁহার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করিতে পারিবেন।

(ঝ)  নির্বাচনের একই পদে প্রতিদ্ধন্দ্বিতারত দুইজন প্রার্থী সমান সংখ্যক ভোট পাইলে টস এর মাধ্যমে জয়ীকে নির্ধারণ করা যাইবে।

(ঞ) কোন প্রার্থী একই সময় দুইটি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিতে পারিবেন না।

(ট)  কার্যনির্বাহী পরিষদে কোন কর্মকর্তা পর পর দুইবার একই পদে অধিষ্ঠিত হইতে পারিবেন। কোন ক্রমেই তিনি একই পদের জন্য তৃতীয়বার প্রতিদ্বন্দ্বী হইতে পারিবেন না।

(ঠ)  চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পূর্বে বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না হইলে উক্ত সদস্য ভোটে অংশ গ্রহণ করিতে পারিবেন না।

(ড)  প্রতি সদস্য প্রতি পদের জন্য কেবলমাত্র একটি ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।

অনুচ্ছেদ ৫ : জার্নাল প্রকাশনা

ধারা ১ : জার্নালের পরিচিতি

বাংলাদেশ কীটতত্ত্ব সমিতি কর্তৃক (Bangladesh Journal of Entomology) শিরোনামযুক্ত একটি বৈজ্ঞানিক জার্নাল প্রকাশিত হইবে। এই জার্নাল কত মাস প্রকাশিত হইবে তা কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত হইবে। অন্যান্য প্রকাশনাসমূহও কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রকাশিত হইবে। কেবলমাত্র এই সমিতির সদস্যদের প্রবন্ধসমূহই এই জার্নালে প্রকাশ করা হইবে।

ধারা ২ : সম্পাদনা পরিষদ

(ক) সমিতির জার্নাল ও প্রকাশনাসমূহ প্রকাশ করার জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক ১(এক) জন সম্পাদক এবং ৫ (পাঁচ) জন সদস্য সম্বলিত একটি সম্পাদনা পরিষদ গঠিত হইবে। বাংলাদেশ কীটতত্ত্ব সমিতির প্রকাশনা সম্পাদক পদাধিকারবলে উক্ত সম্পাদনা পরিষদের সদস্য-সচিব বলিয়া বিবেচিত হইবেন। সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকও পদাধিকার বলে সম্পাদনা পরিষদের সদস্য বলিয়া বিবেচিত হইবেন।

ধারা ৩ : প্রকাশনার ব্যয়ভার

Bangladesh Journal of Entomology এবং অন্যান্য প্রকাশনার যাবতীয় খরচ বাংলাদেশ কীটতত্ত্ব সমিতি বহন করিবে। জার্নাল ও প্রকাশনা বাবদ আয়সমূহ সমিতির আয় হিসেবে বিবেচনা করা হইবে এবং তাহা সমিতির তহবিলে জমা হইবে।

অনুচ্ছেদ ৬ : তহবিল

সমিতির তহবিলে কেবলমাত্র সমিতির নামে সঞ্চয় করিতে হইবে। তহবিল অবশ্যই সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ-এর যৌথ স্বাক্ষরকৃত হিসাবে জমা থাকিবে। তবে জার্নাল ও প্রকাশনার সুবিধার্থে তহবিল খোলা যাইতে পারে এবং সেই ক্ষেত্রে তাহা সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ উভয়ের স্বাক্ষরকৃত হিসাবে জমা রাখিতে হইবে। সকল তহবিল সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক বা একাধিক স্বীকৃত ব্যাংকে জমা থাকিবে।

অনুচ্ছেদ ৭ : গঠনতন্ত্রের সংশোধনী

প্রয়োজনবোধে সমিতির দুই-তৃতীয়াংশ সক্রিয় সদস্যের লিখিত সম্মতিক্রমে এই গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন, সংশোধন এবং সংযোজন করা যাইতে পারে। কোন ধারা বা অংশ সংশোধন, পরিবর্তন কিংবা সংযোজন করিতে চাহিলে কমপক্ষে তিনজন সক্রিয় সদস্য লিখিতভাবে সভাপতির নিকট আবেদন জানাইবেন। সভাপতি সেক্ষেত্রে এই আবেদন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সকল সদস্যকে অবহিত করাইবেন এবং একটি সাধারণ সভা আহবান করিবেন। উক্ত সভায় সমিতির মোট সক্রিয় সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশের বেশী ভোটে ধারা বা অংশ বিশেষের পরিবর্তন কিংবা সংযোজন করা যাইবে।